অতি সাধারণ সাত ব্যাক্তি যারা বদলে দিয়েছেন পৃথিবীটাকে !

সাধারণ থেকেই অসাধারণের জন্ম হতে পারে। এটা মানুষের ক্ষেত্রে হয়ে আসছে সেই সভ্যতার ঊষালগ্ন থেকে। এখানে জেনে নিন এমনই ৭ জন মানুষের কথা, যারা অতি সাধারণ হয়েও পৃথিবীটাকে বদলে দিয়েছেন।

১. রায়ান হোয়াইট এর এইডস সচেতনতা : এইডস কতটা ভয়ঙ্কর তা তখনো বুঝতে পারেনি বিশ্ববাসী। এটি বুঝিয়ে দিলেন রায়ান হোয়াইট। মাত্র ১৮ বছর বয়সে চিকিৎসাবিজ্ঞানকে ব্যর্থ করে দিয়ে মারা গেলেন তিনি। অসহায় পরিবার এবং বিশ্ব বুঝে উঠলো, এইডস শুধু মাদক থেকেই নয়, যৌনতা থেকেও জীবনটাকে নিয়ে নিতে পারে।

২. ফ্রাঙ্ক উইলিস এবং ওয়াটারগেট : ওয়াশিংটনের ওয়াটারগেট অফিস ভবনের বেজমেন্টে দরজার ওপরে একটি টেপ খুঁজে পেলেন নিরাপত্তারক্ষী ফ্রাঙ্ক উইলিস। পুলিশকে খবর দেওয়ার মতো শুভবুদ্ধির কারণেই বিশ্ববাসীর কাছে প্রকাশ পেলো ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারী। পদত্যাগ করতে হলো আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনকে।

৩. টড বিমার এবং ফ্লাইট ৯৩ : বিশ্বের ইতিহাস বদলে যাওয়ার দিন ৯/১১। যাত্রীবাহি বিমান ফ্লাইট ৯৩ ছিনতাই হয়ে গেলো। ওই বিমানের যাত্রী টড বিমার এবং তার সঙ্গে যোগ দেওয়া আরো কয়েক যাত্রী ছিলেন একেবারে সাধারণ মানুষ। ভয়ঙ্কর অপরাধীদের বিরুদ্ধে আকাশে যুদ্ধ শুরু করলেন তারা। তাদের কারণেই বিমানটি লক্ষ্যে না পৌঁছে পেনসিলভেনিয়ার একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়।

৪. রোজা পার্কস : সেই ১৯৫৫ সালের কথা। একজন কালো নারী বলেই বাসের সিট সাদা পুরুষের জন্যে ছেড়ে দিতে হবে। সেই নিয়মের প্রতিবাদে নিজের সিটটি ছেড়ে দিতে অস্বীকৃতি জানালেন এই কিংবদন্তি নারী। ইতিহাসের তীক্ষ্ন বাঁক জন্ম নিলো। বিশ্বে জন্ম হলো মানবাধিকার আন্দোলন।

৫. এরিনা স্যান্ডলার্স : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সবে পোল্যান্ড দখল দিয়েছে জার্মানরা। এরিনা স্যান্ডলার্স আরো কয়েকজনের সহায়তায় প্রায় আড়াই হাজার ইহুদি শিশুকে নিরাপদে সরিয়ে নিলেন। ধরা খেলেন তিনি। নিদারুণ অত্যাচারের পরও তার মুখ ফুটে বের হয়নি, শিশুগুলো কোথায় আছে।

৬. ক্যান্ডি লাইটনার : আশির দশকের প্রথম দিকের কথা। তার ১৩ বছরের মেয়েটি এক মাতাল গাড়ি চালকের ধাক্কায় মারা গেলেন। সাধারণ সেই মানুষটি শুরু করছেন তার অসাধারণ কর্মযজ্ঞ। গোটা আমেরিকায় প্রতিষ্ঠিত হলো মদ্যপ গাড়ি চালকদের শাস্তির বিধান।

৭. লয়িস গিবস : তাকে ‘সুপারফান্ডের জননী’ বলা হয়। তিনি প্রথমবারের মতো রাসায়নিক বর্জ্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠলেন। নায়াগ্রা ফলস এলাকার এই অতি সাধারণ নারী প্রতিবেশীদের এক করে শুরু করলেন সচেতনতার আন্দোলন। ধীরে ধীরে গড়ে উঠলো ‘সুপারফান্ড’। রাসায়নিক বর্জ্যে পরিবেশের ক্ষতি এবং মানবজাতির ক্ষতির বিষয়টি পরিষ্কার হলো মানুষের কাছে। পরবর্তিতে তাকে ‘সুপারফান্ডের জননী’ বলে অভিহিত করা হলো। বিশ্বব্যাপী এ বিষয়ে কর্মসূচি চলছে।

Shortlink:

Q&A

You must be logged in to post a comment Login