ইন্টারনেটে মা-কালির পর্নো ছবি!

ma-kaliওয়েবসাইটে প্রচারিত একটি অনলাইন গেমের কভারে হিন্দুদের দেবী মা-কালির একটি পর্নো ছবি প্রকাশ হওয়া নিয়ে উত্তাল হলো আমেরিকান ইন্ডিয়ান সোসাইটি।মূলত গতকাল থেকে আমেরিকান হিন্দুদের মধ্যেই তোলপাড় হয়েছে বেশি।যার রেশ আছড়ে পড়েছে ভারতেও। সাইটের দৌলতে বহুলপ্রচারিত এই অনলাইন গেমটির বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে হিন্দুদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও জনমত তৈরি হয়েছে।আমেরিকান অনলাইন গেম কোম্পানি হাইরেজ স্টুডিও “স্মাইট” নামে তাদের ওই অনলাইন গেমটি তৈরি করেছে।

গেমটিতে মা কালিকে একজন যৌন বুভুক্ষু, রক্তপিপাসু, কামুক মহিলা হিসেবে দেখানো হয়েছে।দেখানো হয়েছে মা কালি নামে নীল বর্ণের ও অশ্বেতকায় ওই দেবী একজন অতিসক্রিয় কামার্ত যৌনকর্মী।তবে শুধু মা কালিই নয়, হিন্দু পুরাণের অনেক দেব দেবী যেমন- দ্রোণাচার্য, বিশ্বকর্মা, বামন, অগ্নি, উর্বশী, লক্ষ্মী এদের নিয়েও পর্নো ছবি বানানোর ও সাইটে তা আপলোড করার অভিযোগ উঠেছে হাইরেজ স্টুডিওর বিরুদ্ধে।

সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হতেই লস এঞ্জেলস থেকে নিউ ইয়র্ক সর্বত্রই শুরু হয় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ।অনাবাসী ভারতীয় ও হিন্দু পুরোহিতরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন নিউ ইয়র্কে, লন্ডনে।

কংগ্রেস ও ভারত সরকার এখনও এ ব্যপারে মুখ না খুললেও বিজেপি, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, সঙ্ঘ পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনাটির তীব্র নিন্দা করা হয়েছে।শনিবার দিল্লির আমেরিকান দূতাবাসে গিয়ে প্রতিবাদপত্র ও স্মারকলিপি জমা দেয়ার কর্মসূচি নিতে পারে হিন্দু সংগঠনগুলি।
অন্যদিকে, হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লাগায় আমেরিকায় আন্তর্জাতিক ইহুদি, বৌদ্ধ ও ক্যাথলিক খ্রিস্টান সম্প্রদায় এই ঘটনার কড়া নিন্দা জানিয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানিয়েছে ওই ধর্মীয় সংগঠনগুলি।তারা জানিয়েছে, “ওই গেম মেকাররা ব্যবসার জন্য কত নিচে নামতে পারে তার প্রমাণ এটাই।অবিলম্বে ওদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা হওয়া উচিত। এই ঘটনা ভীষণ লজ্জাজনক।”
যদিও হাইরেজ স্টুডিওর সিইও টড হ্যারিস ট্যুইট করেছেন এবং সাফ জানিয়েছেন, “কোনও ধর্মের প্রতি ইচ্ছা বা অনিচ্ছাকৃতভাবে আমরা কোনও আঘাত করতে চাইনি।এক মিনিট মাথা ঠাণ্ডা করে ছবিটা দেখুন, হিন্দু দেবী মা কালির সঙ্গে খুব সামান্যই মিল আছে আমাদের তৈরি ছবির।এটা অনলাইন গেমের একটা নেগেটিভ ক্যারেক্টার।মা কালি জিভ বের করে থাকেন।তার নিচে থাকেনে শিব।এছাড়া কালীর এক হাতে খড়গও থাকে। কিন্তু এখানে তার জিভও বের করা নেই, নেই শিব, কেবল আছে দু হাতে অস্ত্র।তাই এটাকে মা কালি বলা যায় না।”

তবে একটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ইন্টারনেটে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হ্যারিস কবুল করেছেন, ছবি বা ক্যারেক্টারটি মা কালীর ছবি দেখেই অনুপ্রাণিত হয়ে তাদের শিল্পী স্মাইট নামে ওই অনলাইন গেম বানিয়েছেন।বানানো হয়েছে নীল ছবি বা পর্নোগ্রাফির স্টাইলে।আর তীব্র আপত্তিটা শুরু হয়েছে এখান থেকেই।

Shortlink:

Q&A

You must be logged in to post a comment Login