জিরা চাষ হচ্ছে বাংলাদেশের নড়াইলে

জিরা চাষনড়াইলের ডুমুরতলা গ্রামের জিয়াউর রহমান কৌতূহলবশত ছয় শতক জমিতে জিরার চাষ করে চমক সৃষ্টি করেছেন। তার এক আত্মীয়ের মাধ্যমে মিসর থেকে ১০০ গ্রাম বীজ এনে বপন করেছিলেন। এতে তার খরচ হয় ৮ হাজার টাকা। ফসল ওঠার আগেই ক্ষেতের জিরার দাম ৮০ হাজার টাকা।

কৃষি বিভাগের মতে, দেশের আবহাওয়া ও মাটি জিরা চাষের উপযোগী। ব্যাপকভাবে জিরা চাষের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। দেশে জিরার উৎপাদন না হওয়ায় চাহিদা মেটাতে ভারত, ইরানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে তা আমদানি করতে হয়।

ডুমুরতলা গ্রামের মরহুম গনি মোল্লার ছোট ছেলে কৃষক জিয়াউর গাছে নিবিড় পরিচর্যা করার পর ফল এসেছে এবং তা পরিপুষ্ট হতে শুরু করেছে। বাতাসে দুলছে তার ক্ষেত। সেই সঙ্গে কৃষক জিয়ার মনেও আনন্দ দোলা দিচ্ছে। তিনি ১০ অগ্রহায়ণ জমি প্রস্তুত করে বপন করেন। বপন থেকে শুরু করে পাকা পর্যন্ত চার মাস সময় লাগে।

জিয়া এই জিরা বীজ হিসেবে সংরক্ষণ করে আশপাশ এলাকার কৃষকের মাঝে ছড়িয়ে দেবেন। সম্ভাবনাময় এ জিরা চাষে সফলতা এলে হয়তো বিদেশ থেকে আমদানি করা লাগবে না। স্থানীয় কৃষক রফিকুল ইসলাম, চঞ্চল ঘোষ, আনিচুর রহমান জানান, জিরার ক্ষেত দেখে তারাও আগামীতে জিরা চাষ করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এজন্য তারা কৃষি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, নাতিশীতোষ্ণ এবং শুষ্ক আবহাওয়া জিরা চাষের জন্যে আদর্শ। সুনিষ্কাশিত উর্বর, গভীর এবং বেলে দোঁআশ মাটি জিরা চাষের জন্য উত্তম। জিরার চার ধরনের জাত রয়েছে। লম্বা, বেঁটে, গোলাপী ও সাদা ফুল। গোলাপী ফুল জাতের জিরার ফলন বেশি হয়। ছিটিয়ে বীজ বপন করলে হেক্টরপ্রতি ১২ থেকে ১৫ কেজি বীজ এবং সারিতে মাদা করে লাগালে হেক্টরপ্রতি ৮ থেকে ১০ কেজি বীজ প্রয়োজন হয়। জিরা ফল ধরার সময় শুকনো এবং ঠান্ডা আবহাওয়া এবং ফল পুষ্ট হওয়ার সময়ে নাতিশীতোষ্ণ এবং শুষ্ক আবহাওয়া আদর্শ।

Shortlink:

Q&A

You must be logged in to post a comment Login