তিন যুবক যেভাবে উদ্ধার করল জিহাদকে (ভিডিওসহ)

তিন যুবক যেভাবে উদ্ধার করল জিহাদকে (ভিডিওসহ)টানা ২৩ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর ও আবিশ্রান্ত অভিযানের পর অবশেষে তিন যুবকের প্রচেষ্টায় উদ্ধার হলো শিশু জিহাদ।

জিহাদ পাইপে নেই বলে ঘোষণা দিয়ে উদ্ধার অভিযান স্থগিত করার ২ মিনিট পরই উদ্ধার করা হলো চার বছরের এই শিশুকে। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর শাহজাহানপুরের রেলওয়ে মাঠসংলগ্ন পানির পাম্পের ৩শ ফুট গভীর পাইপে পড়ে যাওয়ার পর শিশুটিকে উদ্ধারে চেষ্টা চালায় ফায়ার সার্ভিস কয়েকটি ইউনিট সাধারণ মানুষরা। কিন্তু রাত ভর প্রচেষ্টার পর আজও (শনিবার) বেলা গড়িয়ে গেলেও যখন শিশুটির কোন খোঁজ মিলছিলনা ঠিক তখনই ঘোষণা এল উদ্ধারকাজের সমাপ্তির। আর এই ঘোষণার ঠিক ২ মিনিট পরই জিহাদকে রশি দিয়ে টেনে তুলেন তিন যুবক।

শিশুটিকে উদ্ধারে কাজ করেন মজিদ, লিটু ও আনোয়ার। তাদের তৈরিকৃত একটি ক্যাচারের মাধ্যমে জিহাদকে টেনে তোলা হয়। তাকে প্রায় ২৩৫ ফুট নিচ থেকে ওই যন্ত্রটি দিয়ে টেনে তোলা হয়েছে। ক্যাচারটি লোহার রড এবং জাল দিয়ে তৈরি। এ ক্যাচারে কেউ ডুকে পড়লে আর বের হতে পারবে না।

জিহাদ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে উদ্ধার কাজে অংশ নেয়া যুবক লিটু সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি গতকাল রাতে সাভারের হেমায়েতপুর থেকে এসেছি। এখানে এসে আরো কয়েকজন মেকানিকের সঙ্গে কথা বলে ক্যাচার তৈরি করি। রাত ৩টার দিকে আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করি। আজ দুপুরে ক্যাচারের মাধ্যমে শিশুটিকে টেনে তুলতে সক্ষম হই।’

এর আগে ফায়ার সার্ভিস প্রথমে শিশুটিকে রশি ফেলে উদ্ধারের চেষ্টা করে। তারপর রশিতে কাঠ বেঁধে দেয়া হয়। সে প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় রশির সঙ্গে পাইপে একটি বস্তা দেয়া হয়। সর্বশেষ ক্রেন দিয়ে পাইপটি টেনে তোলার চেষ্টা করা হলেও সেটি সফল হয়নি। রাত ৩টার দিকে ৩শ’ ফুট গভীর পাইপে শিশু জিহাদের অবস্থান জানতে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা পাঠানো হয়।

কিন্তু, উদ্ধার কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তারা এর আগে বলেছিলেন, ক্যামেরা নামানোর পর একেবারে শেষ প্রান্তে তেলাপোকা, টিকিটিকিও দেখা গেছে। কিন্তু শিশুর কোনো শরীর দেখা যায়নি।

Shortlink:

Q&A

You must be logged in to post a comment Login