পুরুষের খোঁজে ব্রাজিলীয়ান সুন্দরীরা !

young-men-news-_27124একটি দ্বীপে নারী আছে কিন্তু পুরুষ নেই। কথাটি শুনলে সবার কাছে রূপকথার গল্প মনে হতে পারে। কিন্তু এটি মোটেও কোনও গল্প নয়। শুক্রবার ইনডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ব্রাজিলের নোইকা দো করডেইরো দ্বীপে শুধু নারীদের বসবাস। সেখানে তাদের সঙ্গে কোনও পুরুষ বাস করেন না।

দীর্ঘদিন ধরে এসব নারী চুপ থাকলেও এবার প্রকাশ্যে পুরুষের সন্ধানে নেমেছেন। এখন তারা আর একাকী থাকতে চান না। তারা পুরুষের সান্নিধ্য পেতে ব্যাকুল। পুরুষের কাছ থেকে শারীরিক, মানসিক সুখ নিতে চান।

ব্রাজিলের এই দ্বীপে যে মোটেও পুরুষ নেই তা অবশ্য ঠিক না। এই দ্বীপে কিছু পুরুষ আছেন কিন্তু তা উল্লেখ করার মতো নয়। এখানে নারীদের শাসন চলে। ছেলে সন্তানের বয়স ১৮ বছর হলেই ওই এলাকার বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ওই দ্বীপের পুরুষরাও বাইরে থাকেন। তারা এক সপ্তাহের বেশি ওই দ্বীপে অবস্থান করতে পারেন না।

এই দ্বীপে বসবাসকারী নারীরা প্রাকৃতিকভাবেই অসাধারণ সুন্দর চেহারার অধিকারী। কিন্তু নারী ছাড়া পুরুষের যেমন পূর্ণতা আসে না তেমনি পুরুষ ছাড়াও নারীর সৌন্দর্য যেন ম্লান। তাই এ দ্বীপের হাজার সুন্দরী তন্বী নেমে পড়েছে পুরুষের সন্ধানে। ব্রাজিলের বেলো হরিজন্তে থেকে ৬০ মাইল দক্ষিণ-পূর্বের গভীর অরণ্যঘেরা উপত্যকার এ নারীরা পৃথিবীর পুরুষদের কাছে প্রেমের আকুতি জানিয়েছেন।

নিলমা ফার্নান্দেজ (২৩) নামে তাদের একজন তরুণী বলেন, ‘আমি কখনও কোনও পুরুষকে চুমু দিতে পারিনি। আমরা সবাই স্বপ্ন দেখি, প্রেম করবো, বিয়ে করবো।’

তবে স্বামীর জন্য নিজের এলাকা ছাড়তে চান না নিলমা। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, পুরুষরা আমাদের ভালোবেসে এখানেই সংসার করুক। তবে শর্ত হচ্ছে, তাদের আমাদের নিয়মানুযায়ী চলতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের শহর নারীরা শাসন করেন। পুরুষ শাসিত অনেক শহরের চেয়েও আমরা অনেক সুখী ও সংগঠিত। কোনও সমস্যা হলে আমরা নারীদের কায়দায় সমাধান করি। সংঘর্ষ করি না।’

নারী দলটি সরদার এলিদা দায়সির মতে, পুরুষ নিয়ন্ত্রণ নিলে তাদের স্বাতন্ত্র্যবোধ নষ্ট হয়ে যাবে। সুন্দরীদের এই শহরে গোড়াপত্তন হয়েছিল মারিয়া সেনহোরিনহা নামে এক নারীর মাধ্যমে। ১৮৯১ সালে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অপরাধে দেশটির এক খ্রিস্টান চার্চ মারিয়াকে শাস্তি দিয়ে এই দ্বীপে নির্বাসিত করেছিল। কলঙ্কিনী সেই মারিয়াই আজকের এই ‘সুন্দরী উপত্যকা’র বংশমাতা। বংশানুক্রমিকভাবে পাওয়া চার্চের প্রতি তাদের ঘৃণা এতোটাই প্রবল যে, তারা কেউই চার্চের নামও শুনতে পারেন না।

রোজালি ফার্নান্দেজ (৪৯) বলেন, ‘ঈশ্বর আমাদের হৃদয়ে থাকে। তাই আমরা মনে করি না যে, আমাদের চার্চে যাওয়া দরকার। আমাদের সন্তানদের আমরা খ্রিস্টান বানাতে চাই না।’

Shortlink:

Q&A

You must be logged in to post a comment Login