প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে শিক্ষার্থী বেড়েছে এক কোটি ৬৯ লাখ

9334678f28cac9c378fd4a8a293f7462০১ জানুয়ারি- ২০১০ সালে দেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক (মাদ্রাসাসহ) স্তরে শিক্ষার্থী ছিল পৌনে তিন কোটির কিছু বেশি। ২০১৫ সালে শিক্ষার্থীর সংখ্যা হয়েছে চার কোটি সাড়ে ৪৪ লাখ। পাঁচ বছরে শিক্ষার্থী বেড়েছে প্রায় এক কোটি ৬৯ লাখ ৫০ হাজার।

বিনা মূল্যে বই দেওয়া, উপবৃত্তি, স্কুল ফিডিং ও মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়ায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে বলে মনে করছে শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও শিক্ষাবিদেরা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে ৭৮ লাখ শিক্ষার্থী উপবৃত্তি পাচ্ছে। ৩১ লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে স্কুল ফিডিংয়ের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রায় ৩৭ লাখ শিক্ষার্থী উপবৃত্তি পাচ্ছে। পাঁচ বছর ধরে প্রাথমিক পর্যায়ের পাশাপাশি মাধ্যমিক পর্যায়েও বিনা মূল্যে পাঠ্যবই দেওয়া হচ্ছে।

বিনা মূল্যে বই দেওয়ায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে—এমনটা উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, মানুষের সচেতনতার কারণে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। এখন নিম্ন আয়ের মানুষও সন্তানকে বিদ্যালয়ে পাঠান।

লেখাপড়া আনন্দদায়ক না হওয়ায় বেশি শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে—এমনটা দাবি করে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, দুঃখের বিষয় হলো, এখনো অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। পড়ালেখার জন্য আনন্দদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যে, প্রাথমিক পর্যায়ে ভর্তি হওয়ার পর পঞ্চম শ্রেণি পাস করার আগেই শতকরা ২১ ভাগ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে।

শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিয়া বলেন, বই কিনতে না পারায় আগে অনেক দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসত না। বইয়ের অভাবে ভর্তি হলেও কিছুদিন পর বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিত। কিন্তু বিনা মূল্যে নতুন পাঠ্যবই দেওয়ায় শিক্ষার্থী বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে উপবৃত্তি, স্কুল ফিডিং, সচেতনতাসহ অন্যান্য উদ্যোগও কাজ করেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করেন, শিক্ষার্থীর সংখ্যায় ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও মানে এখনো অনেক পিছিয়ে আছে। তাঁদের দাবি, এখন তাঁরা গুণগত মানের ওপর জোর দিচ্ছেন।

এনসিটিবির তথ্য, ২০১০ সালে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদ্রাসার ইবতেদায়ি, দাখিল, দাখিল (ভোকেশনাল), এসএসসি (ভোকেশনাল) স্তরের দুই কোটি ৭৬ লাখ ৬২ হাজার ৫২৯ জন শিক্ষার্থীর জন্য প্রায় ২০ কোটি বই ছাপানো হয়। ২০১৫ সালে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার কোটি ৪৪ লাখ ৫২ হাজার ৩৭৪ জন। পয়লা জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া নতুন শিক্ষাবর্ষের জন্য ৩২ কোটি ৬৩ লাখ ৪৭ হাজার ৯২৩টি বই ছাপানো হচ্ছে।

এনসিটিবির এক পদস্থ কর্মকর্তার ভাষ্য, বইয়ের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর দেওয়া চাহিদার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যার হিসাব করা হয়। তাই শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫ শতাংশের মতো কম হতে পারে।

এনসিটিবির তথ্য, ২০১০ সাল থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীকে বিনা মূল্যে নতুন পাঠ্যপুস্তক দেওয়া হচ্ছে। ওই বছরের পয়লা জানুয়ারি থেকে সারা দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসব করে বই দেওয়া হচ্ছে। ২০১২ সালে জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে ১৭ বছর পর শিক্ষাক্রম পরিমার্জন করা হয়। নতুন শিক্ষাক্রমের আলোকে মাধ্যমিক স্তরে সাতটি পাঠ্যপুস্তক নতুনভাবে তৈরি করা হয়। একই সময়ে প্রথমবারের মতো মাধ্যমিক স্তরের বাংলা ব্যাকরণ, ইংরেজি গ্রামার ও দ্রুতপঠন পুস্তকও বিনা মূল্যে দেওয়া শুরু হয়। এ ছাড়া ওই বছর প্রথমবারের মতো ষষ্ঠ শ্রেণিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয় চালু হয়।

এ ছাড়া ২০১৩ সালে মাদ্রাসা স্তরের শিক্ষাক্রমেও পরিমার্জন করা ও নবায়ন করা হয়। প্রথমবারের মতো ষষ্ঠ শ্রেণিতে কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি বিষয় চালু হয়। ২০১৪ সাল থেকে প্রাক-প্রাথমিক (শিশু শ্রেণি) স্তরের শিক্ষার্থীদেরও বিনা মূল্যে বই দেওয়া হচ্ছে।

Shortlink:

Q&A

You must be logged in to post a comment Login