বগুড়ায় সবজি চাষীদের কান্না

Bogra-Vegetable-Marketupload-e বগুড়ায় সবজি চাষীদের কান্নাপুরো শীত মওসুমে বগুড়ার বাজারে সবজির প্রচুর আমদানি হলেও ক্রেতা নেই। টানা অবরোধ আর হরতালের কারণে বগুড়ার বাইরে জেলায় পাঠানো যাচ্ছে না কোনো সবজি। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়ছে চাষীরা।

প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত চাষী তাদের উৎপাদিত সবজি নিয়ে আসছেন পাইকারী বাজারগুলোতে। কিন্তু ক্রেতা না থাকায় মাথায় হাত দিয়ে বসেছেন তারা। পরিবহন খরচ দ্বিগুন-তিনগুন বেড়ে যাওয়ায় পাইকারী ক্রেতারা আসছেন না এসব বাজারে।

বগুড়া থেকে প্রতিদিন অর্ধকোটি টাকার সবজি দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে গেলেও এখন সে চিত্র বদলে গেছে। ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে পাইকারী বাজার। এখন শুধু ভরসা খুচরা বাজার। তবে এসব সবজির ক্রেতা নেই খুচরা বাজারে।

ব্যবসায়ীরা জানালেন, চলতি শীম মওসুমে বগুড়া সদর, মহাস্থান, মোকামতলা, শিবগঞ্জ, ধুনট, শাজাহানপুর, শেরপুর, গাবতলীসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে গড়ে প্রতিদিন ৫০ ট্রাক করে সবজির চালান যেত বাইরের জেলাগুলোতে। আর এতে দৈনিক গড়ে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার সবজি বিক্রি করতে চাষিরা।

কদিন আগেও বগুড়ার মহাস্থান, মোকামতলা, মাঝিড়া, শেরপুর মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকায় সবজি বাজার ছিল জমজমাট। ভোর থেকেই চাষীরা সবজি নিয়ে ছুটে আসতেন এসব বাজারে। দুপুর পর্যন্ত একটানা চলতো বেচাবিক্রি।

বাইরের জেলাগুলো থেকে আসা ব্যবসায়ীদের ভিড় জমতো এসব বাজারে। তবে এখন চিত্র উল্টে গেছে। হাজার হাজার মণ সবজি নিয়ে মাথায় হাত দিয়ে বসে আছেন চাষীরা। কোথায় খুঁজে পাচ্ছে না কোনো ক্রেতা।

মহাস্থান বাজারে ফুলকপি বেচতে আসা সবজিচাষী আনোয়ার হোসেন অসহায় ভাবে জানালেন, এক বিঘা জমিতে তিনি ফুলকপি চাষ করেছেন। কিন্তু খরচ উঠবে বলে মনে হয়না। হরতাল অবরোধ না থাকলে লাভই হতো। কিন্তু এখন কেনারই মানুষ নাই। ফেলেও দিতে পারছেন না যত্মে ফলানো সবজি। কথা বলতে বলতে তার চোখে কোনে পানি চলে আসে।

মহাস্থান এলাকার মেসার্স বলখী (রা.) ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মোবারক হোসেন জানান, নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত মহাস্থান বাজারে চলে শীতের সবজির বেচাকেনা। প্রতিদিন ৫০ ট্রাক পর্যন্ত সবজি সরবরাহ করা হলেও হরতাল আর অবরোধে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৮-১০ ট্রাকে।

মোবারক আরো জানান, হরতাল অবরোধে সবজির দাম না থাকলেও ভাড়া বেড়েছে কয়েকগুন।

কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, মহাস্থান থেকে ঢাকার কাওরান বাজারে যাওয়ার জন্য ট্রাক ভাড়া ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায়। চালকরা ঝুঁকি নিয়ে যাওয়ার কারণেই ভাড়া বেশি নিচ্ছে। এ কারণে খুচরা বাজারেও সবজির দাম কমছে না।

সবজির সবচেয়ে বড় পাইকারী বাজার মহাস্থান ঘুরে দেখা গেছে ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ২-৩ টাকায়, একশ বাঁধা কপির দামি ৩শ-৪শ টাকা, আলু (লাল) ৩২০ টাকা মণ, আলু(সাদা) ২৫০ টাকা মণ, সীম প্রচার ভেদে প্রতি কেজি ৫ থেকে ৮ টাকা, বেগুন ৮-১০ টাকা কেজি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বগুড়ার উপ-পরিচালক চণ্ডিদাস কুণ্ডু জানান, বগুড়ায় প্রতিবছর ১২ হাজার হেক্টর জমি থেকে প্রায় সাড়ে ৪২৫ কোটি টাকার সবজি উৎপন্ন হয়। জেলায় সারা বছরে উৎপন্ন ৩ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন সবজির মধ্যে ২ লাখ মেট্রিক টন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ১ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন সবজি বাইরের জেলাগুলোতে সরবরাহ হয়। এসব সবজি বিক্রি থেকে জেলার কৃষকরা প্রায় ২০০ কোটি টাকা আয় করেন। শুধু শীতকালে প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন সবজি উৎপন্ন হয়।

তথ্যঃহ্যালো-টুডে

Shortlink:

Q&A

You must be logged in to post a comment Login