বাংলাদেশের শীর্ষ ৫০ সম্পদশালী

বাংলাদেশের শীর্ষ সম্পদশালী২০১৩-১৪ সালের করবর্ষের সম্পদ বিবরণীর তালিকা অনুযায়ী বাংলাদেশের শীর্ষ সম্পদশালী ৫০ ব্যক্তির তালিকায় দেখা গেছে ১০০ কোটি টাকার বেশি নিট সম্পদের মালিক রয়েছেন ২৭ জন। আর ৫০ কোটি টাকা বা তার চেয়ে বেশি টাকার নিট সম্পদের মালিক রয়েছেন এমন সম্পদশালীর সংখ্যা ৪৬ জন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের তালিকায় এমন তথ্য জানা গেছে। মোট সম্পদ থেকে মোট দায় বাদ দিলে যা থাকে তাই নিট সম্পদ।
শওকত আলী চৌধুরী

প্রকাশিত নিট সম্পদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী শওকত আলী চৌধুরী। তার প্রদর্শিত সম্পদের পরিমাণ ২৭৫ কোটি টাকা। ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের ডিরেক্টর এবং দেশের একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শওকত আলী চৌধুরী। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাচেলর অফ আর্টস ডিগ্রী সম্পন্ন করেন।

শওকত আলী চৌধুরী শিপ রিসাইক্লিং, গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজ, রিয়েল এস্টেট, পাওয়ার জেনারেশন এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস, কনটেইনার টার্মিনাল এন্ড হ্যান্ডলিং, ইনস্যুরেন্স কোম্পানি, শেয়ার ব্রকারস এন্ড টি প্লান্টেসন এন্ড প্রোডাকশন ব্যবসার সাথে জড়িত।

শওকত আলী চৌধুরী সার্ক চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডস্ট্রি, ভাটিয়ারি গলফ এন্ড কান্ট্রি ক্লাব লিমিটেড, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব লিমিটেড, চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে এর আজীবন সদস্য। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চ্যম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডস্ট্রি এর ডিরেক্টর এবং চট্টগ্রাম ক্লাব লিমিটেড এর চট্টগ্রাম সিনিয়র ক্লাব লিমিটেড ও বাংলাদেশ শিপ ব্রেকারস সমিতির সদস্য পরিচালক। এছাড়াও তিনি অন্যান্য অনেক সামাজিক কর্মকান্ডের সাথে।
সাইফুল ইসলাম

দ্বিতীয় সম্পদশালী ব্যক্তির তালিকায় রয়েছেন নাভানা গ্রুপের সাইফুল ইসলাম। তার নিট সম্পদের পরিমাণ ২৭০ কোটি টাকা।

১৯৪৯ সালে জন্মগ্রহণ করা সাইফুল ইসলামের বাবা প্রয়াত আলহাজ্ব আফতাবউদ্দিন আহমেদ। তিনি তার মাধ্যমিক শেষ করেন বিজ্ঞান বিভাগ হতে। এরপর তিনি ১৯৬৮ সালে ইসলাম গ্রুপে যোগদান করে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। নাভানা কার এবং পরে আফতাব অটোমোবাইলস প্রতিষ্ঠায় তিনি অনন্য ভূমিকা রাখেন। এছাড়া তিনি বেঙ্গল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন নামের নির্মান প্রতিষ্ঠান দাঁড় করানোতেও অসামান্য ভূমিকা রাখেন। এবং ১৯৮১ সাল থেকে তিনি ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডেরও দেখভাল শুরু করেন। ইসলাম গ্রুপের চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলামের মৃত্যুর পর তিনি নাভানা লিমিটেড এবং আফতাব অটোমোবাইলস লিমিটেডকে আলাদা করে নাভানা গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন।
সা’দাত সোবহান

২০৫ কোটি টাকার নিট সম্পদ নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন বসুন্ধরা গ্রুপের সা’দাদ সোবহান।

বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের চার সন্তানের সবার বড় সা’দাত সোবহান। শৈশব ও কৈশরের বেশিরভাগ সময় ইউরোপে কাটানো সা’দাত সোবহান ২০০০ সালে লন্ডনের হুরন বিশ্ববিদ্যালয় হতে বিজ্ঞানে গ্রাজুয়েশন শেষ করে তিনি তার বাবার প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপেই যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি বসুন্ধরা গ্রুপের বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের কো-চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করছেন। সেই সাথে দারিদ্র্য দূরীকরণে বেশ কিছু সামাজিক কর্মকাণ্ডেও জড়িত আছেন। এপর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার ছিন্নমূলকে তিনি পুণর্বাসন করেছেন।
মোয়াজ্জেম হোসেন

২০০ কোটি টাকার নিট সম্পদ নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছেন হোসাফ গ্রুপের মোয়াজ্জেম হোসেন।

মোয়াজ্জেম হোসেন শুধু হোসাফ গ্রুপেরই প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান নন, সেই সাথে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডেরও ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ডিরেক্টর। তিনি হোসাফ মিটার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং সিটিলিংক অ্যাপার্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। মোযাজ্জেম হোসেন বাংলাদেশের প্রথম উদ্যোক্তদের একজন, যিনি তার ব্যবসা দেশ এবং বিদেশে সমানতালে ছড়িয়েছেন। তিনি বিজিএমইয়ের সাবেক সভাপতি পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ এনার্জি কোম্পানিজ এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট এবং প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
সালমান এফ রহমান

১৬৫ কোটি টাকার নিট সম্পদ নিয়ে তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছেন বেক্সিমকোর সালমান এফ রহমান।

আফরোজা বেগম: ষষ্ঠ স্থানে আছেন আফরোজা বেগম। যার নিট সম্পদের পরিমাণ ১৫৮ কোটি টাকা।

সাফওয়ান সোবহান: ১৫৫ কোটি টাকার নিট সম্পদ নিয়ে তালিকায় সপ্তম স্থানে রয়েছেন বসুন্ধরা গ্রুপের সাফওয়ান সোবহান।

আকিজ পরিবার: শীর্ষ সম্পদশালীর তালিকায় সবচেয়ে বেশি সদস্য রয়েছেন আকিজ পারিবারের। এ পরিবারের পাঁচ সদস্য শেখ বশিরউদ্দিন, শেখ জামিল উদ্দিন, শেখ জসিম উদ্দিন, শেখ শামীম উদ্দিন ও শেখ নাসির উদ্দিন প্রত্যেকেই ১৪০ কোটি টাকার নিট সম্পদের মালিক। তাঁরা সবাই রয়েছেন অষ্টম স্থানে।

এম এ খালেক: গেটকোর অংশীদার ও প্রাইম ব্যাংকের পরিচালক এম এ খালেকরও রয়েছে ১৪০ কোটি টাকার নিট সম্পদ। আকিজ পরিবারের সদস্যদের সাথে যৌথভাবে তিনিও রয়েছেন তালিকার অষ্টম স্থানে।

সোহেল এফ রহমান: ১৩৭ কোটি টাকার নিট সম্পদ নিয়ে তালিকার নবম স্থানে রয়েছেন বেক্সিমকো গ্রুপের সোহেল এফ রহমান।

মঞ্জুরুল ইসলাম: ১৩৫ কোটি টাকার নিট সম্পদ নিয়ে দশম স্থানে রয়েছেন মঞ্জুরুল ইসলাম। এছাড়া আনোয়ার হোসেনের নিট সম্পদ রয়েছে ১৩০ কোটি টাকা।

তালিকায় ক্রম অনুযায়ী এরপর নিট সম্পদের তালিকায় ১৩০ কোটি নিয়ে নাসা গ্রুপের কর্ণধার নজরুল ইসলাম মজুমদার, ১২৫ কোটি টাকা নিয়ে প্রাণ গ্রুপের আহসান খান চৌধুরী, ১২০ কোটি টাকার নিট সম্পদ নিয়ে এস আলম গ্রুপের মো. সাইফুল আলম ও মো. জহিরুল ইসলাম চৌধুরী অবস্থান করছেন। এর পরে ১১০ কোটি টাকার নিট সম্পদ নিয়ে মো. মোসাদ্দেক আলী এবং ১০৭ কোটি টাকার নিট সম্পদ নিয়ে হাজি ইউনূস রয়েছেন।

তালিকায় এরপর রয়েছেন গাজী গ্রুপের কর্ণধার গোলাম দস্তগীর গাজী। তার নিট সম্পদের পরিমাণ ১০৫ কোটি টাকা। তার পরেই রয়েছেন ১০০ কোটি টাকা নিট সম্পদের মালিক মোরশেদ আলম ও নিটল-নিলয় গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল মাতলুব আহমাদ। মো. ফারুকের নিট সম্পদের পরিমান ৯৬ কোটি ও মো. হানিফের ৯৫ কোটি টাকা। ৯০ কোটি টাকার নিট সম্পদের মালিক ওরিয়ন গ্রুপের কর্ণধার ওবায়দুল করিম। এছাড়া জাহাঙ্গীর আলম খানের নিট সম্পদের পরিমান ৮৭ কেটি, মো. আমানউল্লাহর ৮৬ কোটি, মোয়াজ্জেম হোসেনের ৮১ কোটি, মেহদাদুর রহমানের ৮১ কোটি ও সৈয়দ হোসেন চৌধুরীর ৭৬ কোটি টাকা। প্রাণ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মেজর জেনারেল (অব.) আমজাদ খান চৌধুরীর নিট সম্পদের পরিমান ৭৫ কোটি, আবদুস সালামের ৭০ কোটি, আজিজ আল মাহমুদের ৬৮ কোটি ও মনোয়ারা বেগমের ৬৭ কোটি টাকা।

এরপর পর্যায়ক্রমে রয়েছেন বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ও এনভয় গ্রুপের কর্ণধার কুতুবউদ্দিন আহমদের নিট সম্পদের পরিমান ৬৭ কোটি, সালমা হকের ৬৪ কোটি টাকা। এছাড়া মিজানুর রহমানের ৬৪ কোটি, ইউনিক গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মো. নুর আলীর ৬০ কোটি, নাসিফ সিকদারের ৬০ কোটি ও নজরুল ইসলাম স্বপনের ৫৯ কোটি টাকার নিট সম্পদ রয়েছে। ৫৮ কোটি টাকার নিট সম্পদ নিয়ে সম্পদশালীদের তালিকায় রয়েছেন বিজেএমইএ’র সাবেক প্রেসিডেন্ট ও এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুস সালাম মুর্শেদী।

এছাড়া মো. ইউনুছের নিট সম্পদের পরিমান ৫০ কোটি টাকা, সাউথইস্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান রাগীব আলীর ৫০ কোটি টাকা, জ্যোৎস্না বেগমের ৪৪ কোটি, মনজুর মোর্শেদ খানের ৪২ কোটি, আজিম উদ্দিনের ৪০ কোটি ও আলী আজগরের ৩৯ কোটি টাকা। মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এমসিসিআই) সভাপতি ও এপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুরের নিট সম্পদ রয়েছে ২৭ কোটি টাকা, ইস্টকোস্ট গ্রুপের কর্ণধার আজম জে চৌধুরীর ২৫ কোটি ও সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের ২১ কোটি টাকা।

Shortlink:

Q&A

You must be logged in to post a comment Login