বায়োমেট্রিক সিম নিবন্ধনে ভোগান্তি । মিলছে না আঙুলের ছাপ !

originalবায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে মোবাইল ফোনের সিম নিবন্ধন করতে গিয়ে অনেকের আঙুলের ছাপ মিলছে। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে মোবাইল ফোন গ্রাহকদের। আঙুলের ছাপ না মিলায় নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দৌড়ঝাঁপ করেও অনেকে সমাধান পাচ্ছেন না। এক্ষেত্রে আঙুলের ছাপ ছাড়া বিকল্প কোনো উপায়ে সিম নিবন্ধনের ব্যবস্থা না থাকায় গ্রাহকদের অনেকে অন্যের নামে নিজের সিমটি নিবন্ধ করছেন। এটি করতে অপারেটরদর পক্ষ থেকেও বলা হচ্ছে। নিজ এলাকা ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল উপজেলায় বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন করতে যান ইডেন মহিলা কলেজের ছাত্রী ফারিহা মরিয়ম। এতে ঝামেলায় পড়েন তিনি। এনআইডির করার সময় আঙুলের ছাপের সঙ্গে এখনকার ছাপ না মেলায় তাকে পাঠানো হয় জেলা শহরে। সেখানেও একই সমস্যা। ঢাকা আসার পরামর্শ দেয়া হয় সেখান থেকে। ঢাকার নীলক্ষেতে চারটি দোকান চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। তারপর ফার্মগেট গ্রামীণফোন সেন্টারে যান। এখানেও ছাপ মেলেনি। অবশেষ নীলক্ষেত গিয়ে  সহপাঠীর নামে তার সিম নিবন্ধন করিয়েছেন। ভোগান্তির কথা বলতে গিয়ে মরিয়ম বলেন, গ্রামীণ সেন্টার থেকে বলা হচ্ছে আবার নিজ উপজেলা নির্বাচন অফিসে আঙুলের ছাপ দিয়ে আসতে। তার মত, এত ঝামেলা কেন নেবো। তাই বাধ্য হয়ে আমার ক্লাসমেট দিয়ে করিয়ে নিয়েছি। শুধু মরিয়ম নয়, প্রতিদিন বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন করতে গিয়ে
এ ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে লাখো গ্রাহকদের। মোবাইল কোম্পানিগুলো এর কোনো সমাধান দিতে পারছেন না। গ্রাহককে নির্বাচন কমিশন অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে। এতে নতুন ভোগান্তির শঙ্কায় অনেকেই এই পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন করার আগ্রহ হারাচ্ছেন।
মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলোর রাজধানীর একাধিক এলাকার গ্রাহক সেবা সেন্টার ও সেবাদানকারী কেন্দ্রে মঙ্গলবার গ্রাহকের নানা বিড়ম্বনা ও ভোগান্তি চোখে পড়ে। দুপুরে সাড়ে ১২টায় নীলক্ষেত আরিফ টেলিকম সেন্টারে সামনে লম্বা লাইন। আধা ঘণ্টা লাইনে থাকার পর সিম নিবন্ধন করতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করে এক গ্রাহক বলেন, আমি কী চোর নাকি ডাকাত। এতো ঝামেলা করে সিম নিবন্ধন করবো না। আঙুলের ছাপ না মিললে সেটা দোষ কে নিবে? আমি কেন আবার নিজের এলাকায় যাবো। সেখানে নতুন করে আরেক ঝামেলা পোহাতে হবে। কাস্টমার কেয়ারের কর্মকর্তারা বলছেন, ছাপ না মেলার কারণ হিসেবে ৩-৪টি সমস্যা চিহ্নিত করেছেন তারা। এগুলোর মধ্যে এনআইডিতে আঙুলের ছাপ না থাকা এবং ছাপ পূর্ণাঙ্গ না মেলার কারণে বেশি গ্রাহক নিবন্ধন করতে পারছেন না। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, ২০০৮ সালে সেনাবাহিনী আউসর্সোসিং পদ্ধতিতে হাতের আঙুলের ছাপ নিয়েছিল। সেখানে যে মেশিনে ছাপ নেয়া হয়েছিল তা ছিল ভালো মানের। এখন অপারেটররা যে মেশিন ব্যবহার করছে তা সে মানের নয়। এ কারণেই এ সমস্যা তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া নানা কারণে ওই সময় অনেকেই আঙুলের ছাপ নেয়া হয়নি বা দিতে পারেনি। যাদের আঙুলের ছাপ মিলছে না এর কারণ ব্যাখ্যা করে কর্মকর্তারা বলছেন, ৭-৮ বছর আগে একজন আঙুলের জল ছাপ দিয়েছিলেন। পেশার কারণে অনেকেই আঙুলের ছাপ ঝাপসা হয়ে গেছে বা পুরোপুরি আসছে না। অনেকে ক্ষেত্রে দেখা প্রায় অদৃশ্য হয়ে গেছে। ওই সময়ের দেয়া আঙুলের ছাপ এখন সর্বনিম্ন ৪৫% না মিললে সার্ভার সেটি গ্রহণ করে না। এসব কারণে বেশ ঝামেলায় পড়ছেন গ্রাহকরা। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নির্বাচন কমিশন গিয়ে নতুন করে আঙুলের ছাপ দিয়ে আসলে পরবর্র্তীতে মিলে যাচ্ছে। অনেকেই এটি করেছেন। ফার্মগেটে স্ত্রীকে নিয়ে সিম নিবন্ধন করতে এসেছিলেন আবদুল জলিল। তিনি জানান, আঙুলের ছাপ না মেলার কারণে এলাকার এজেন্টরা সেন্টারে আসতে বললো। এখানে তার আঙুলের ছাপ না মেলায় স্ত্রীর নামে সিম নিবন্ধন করেছি। তিনি জানান, ২০০৮ সালে আমি এনআইডির জন্য আঙুলের ছাপ দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন সেখানে তার আঙুলের ছাপ মিলছে না। তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, তাহলে কী আমার এনআইডি কার্ড বাতিল?
জাতীয় পরিচয়পত্রে আঙুলের ছাপ না থাকলে যা করবেন: সারা দেশে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন করতে গিয়ে আঙুলের এই ছাপ মিলিয়ে দেখা হচ্ছে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সঙ্গে। কিন্তু যাঁদের এনআইডিতে আঙুলের ছাপ নেই বা যাঁরা এখনো এনআইডি কার্ড পাননি, তাঁদেরকে মোবাইল সিম নিবন্ধন করতে গিয়ে ব্যাপক ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে এনআইডি নিবন্ধন অনুবিভাগের পক্ষ এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নাগরিকদের এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কিছু নেই। যাঁদের এনআইডিতে আঙুলের ছাপ নেই, তাঁদের উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে যোগাযোগ করতে হবে। সেখানেই তাদের আঙুলের ছাপ নিয়ে নেয়া হবে। আর যাদের আঙুলের ছাপ মিলছে না তারাও নতুন করে ছাপ দেয়ার ব্যবস্থা আছে।
এ সংক্রান্ত বিবৃতিতে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালকের পক্ষ থেকে বলা হয়, মোবাইল কোম্পানি ও বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনকে (বিটিআরসি) বলা আছে, যদি কোনো নাগরিকের আঙুলের ছাপ নিয়ে কোনো সমস্যা দেখা দেয় তাহলে তিনি যেন উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন। নাগরিকের এনআইডিতে আঙুলের ছাপ আছে কি না, সেটি মোবাইল কোম্পানিগুলো পরীক্ষা করছে ঠিকই কিন্তু অনেক সময় তাদের ডিভাইসে হয়তো কাজ করে না বা অনেক নাগরিকের আঙুলের ছাপ অস্পষ্ট বা বুঝা যায় না বা অনেকের নাও থাকতে পারে। যদি কোনো নাগরিক এ রকম সমস্যায় পড়েন, তবে তিনি যেন তাঁর নিজ উপজেলায় বা থানা কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন।
জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক আরও বলেন, এটা নিয়ে নাগরিকদের বেশি চিন্তা করার কিছু নেই। কোনো এনআইডি কার্ডধারী নাগরিকের আঙুলের ছাপ দেয়া আছে কি না সেটি তিনি নিজ উপজেলা বা থানা নির্বাচন কার্যালয়ে গেলেই পরীক্ষা করে জানতে পারবেন। প্রত্যেক উপজেলা/থানা নির্বাচন কার্যালয়কে এ রকম নির্দেশনা দেয়া আছে। যদি সেখানে পরীক্ষা করে দেখা যায় যে কারো আঙুলের ছাপে সমস্যা রয়েছে বা ছাপ নেই, তাহলে তখনই তিনি সেখানে আঙুলের ছাপ দিতে পারবেন।

Shortlink:

Q&A

You must be logged in to post a comment Login