যেভাবে খালেদা জিয়াকে ‘অবরুদ্ধ’ করে রাখা হয়েছে

Khaleda৫ জানুয়ারির সমাবেশ নিয়ে সরকার ও বিএনপির মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যে খালেদা জিয়ার কার্যালয় ঘিরে রেখেছে পুলিশ। গভীর রাতে ওই এলাকায় মোতায়েন করা হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য।

বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস শনিবার রাত ১টার দিকে গুলশানে খালেদার কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের বলেন, “রাত ১১টা ৪০ মিনিট থেকে খালেদা জিয়া কার্যালয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন।

“সবই আপনারা দেখেছেন। ম্যাডাম অবরুদ্ধ অবস্থা থেকেই ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবসের কর্মসূচি পালনের জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।”

অবশ্য পুলিশের দায়িত্বশীল পদে থাকা কোনো কর্মকর্তা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

রাত সাড়ে ১১টার দিকে নয়া পল্টনে দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর অসুস্থতার খবর শুনে তাকে দেখার জন্য খালেদা জিয়া রওনা হলে পুলিশের একটি সাদা ট্রাক কার্যালয়ের মূল ফটকের কাছে আড়াআড়ি দাঁড় করে ব্যারিকেড দেয়।

পাশাপাশি পুলিশের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, এই অবস্থায় খালেদা জিয়ার গাড়ি বেরোতে দেওয়া হবে না।

এরপর রাত পৌনে ১২টার দিকে খালেদা জিয়া নিজের বাসায় যাওয়ার জন্য ব্যারিকেড সরাতে বলেন। এ অবস্থায় গাড়িতে উঠে ১০ মিনিট অপেক্ষা করার পর আবার কার্যালয়ে ফিরে যান তিনি।

এদিকে গভীর রাতেও গুলশান কার্যালয়ের বাইরে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে।

৮৬ নং সড়কে অবস্থিত কার্যালয়ের বাম দিকে আরেকটি পুলিশের ট্রাক আড়াআড়িভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পুলিশ সদস্য ছাড়াও মহিলা পুলিশের একটি দল এবং গোয়েন্দা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য সেখানে অবস্থান নিয়েছেন।

এর বাইরে ৭টি পুলিশ পিকআপ ওই সড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছে।

চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, কেন্দ্রীয় নেতা শিরিন সুলতানা, সৈয়দা আছিফা আশরাফী পাপিয়া, রেহানা আক্তার রানু, রাশেদা বেগম হীরা, সুলতানা আহমেদ, টিএস আইয়ুব, শাহজাহান সম্রাট, শায়রুল কবির খান, শামসুদ্দিন দিদার প্রমুখ নেতারা রয়েছেন।

এর আগে রাত সাড়ে ৮টার দিকে খালেদা জিয়া নিজের বাসা থেকে কার্যালয়ে আসেন।

গত ৫ জানুয়ারি বিএনপিবিহীন দশম সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। বিএনপি ওই দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দিয়েছে।

ওই দিবসের বছরপূর্তির দিনে দলটি ঢাকায় সমাবেশ করতে চাইলেও আগের দিন শনিবার পর্যন্ত পুলিশের অনুমতি পায়নি। এ বিষয়ে পুলিশের স্পষ্ট কোনো বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।

সকালে দ্বিতীয় দফায় ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিফল হন বিএনপি নেতারা। তাদের জানানো হয়, ডিএমপি কমিশনার গাজীপুরে ইজতেমার প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত আছেন বলে সময় দিতে পারছেন না।

এদিকে ওই দিনকে ‘সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষা দিবস’ হিসেবে উদযাপনের ঘোষণা দিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

বিএনপি ইতোমধ্যে হুমকি দিয়েছে, অনুমতি না পেলেও সমাবেশ করবে তারা। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন ১৪ দলের নেতারাও তাদের রাজপথে মোকাবেলার হুমকি দিয়েছে।

Shortlink:

Q&A

You must be logged in to post a comment Login